বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা পাচারের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। দুর্গম পাহাড়, ঘন বনাঞ্চল ও নদীপথকে কাজে লাগিয়ে মাদক কারবারিরা নানা কৌশলে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্টাচ্ছে সীমান্ত নিরাপত্তার ধরনও। প্রচলিত টহলের পাশাপাশি এবার প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
কক্সবাজার সীমান্তে ইয়াবা পাচার প্রতিরোধে বিজিবি আনুষ্ঠানিকভাবে ড্রোন ও অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে। এর মাধ্যমে সীমান্তের দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আকাশপথ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় কোনো অবৈধ বা সন্দেহজনক ড্রোন প্রবেশ করলে তা শনাক্ত ও প্রতিরোধে অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তিও সক্রিয় রাখা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবনী পয়েন্টে আয়োজিত মাদকবিরোধী র্যালিতে এ তথ্য জানান কক্সবাজার বিজিবির ডেপুটি রিজিয়ন কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ আনোয়ারুল আলম। তিনি জানান, বর্তমানে কক্সবাজার সীমান্তে চারটি ড্রোন মোতায়েন রয়েছে, যা ২৪ ঘণ্টা নজরদারি পরিচালনা করছে। শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে সীমান্তে স্থল টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা কার্যক্রমও সমানভাবে জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মাদক পাচারকারীরা প্রায়ই নতুন নতুন কৌশল গ্রহণ করে। সে কারণে সীমান্ত নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে দুর্গম এলাকা দ্রুত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হওয়ায় সন্দেহজনক গতিবিধি আগেভাগেই শনাক্ত করা সহজ হবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রযুক্তিনির্ভর এই নজরদারি শুধু ইয়াবা পাচার দমনেই নয়, মানবপাচার, অস্ত্র চোরাচালান এবং সীমান্তে অন্যান্য আন্তঃদেশীয় অপরাধ প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তির এই সংযোজন বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিজিবির আশা, আধুনিক প্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ের অভিযানের সমন্বয়ে সীমান্তপথে মাদক চোরাচালান আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন